
নিত্য সংবাদ প্রতিবেদক:
বাংলাদেশে বসন্তের আগমনের অন্যতম পরিচিত বার্তা বহন করে কোকিলের মধুর ডাক। ফাল্গুন ও চৈত্র মাস এলেই চারদিকে ভেসে আসে “কুহু কুহু” সুর, যা প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের মনে নতুন ঋতুর আমেজ ছড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বসন্তকালে কোকিলের সক্রিয়তা বৃদ্ধি পায় মূলত প্রজনন মৌসুম শুরু হওয়ার কারণে।
বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় Asian Koel বা কোকিল পাখি। বসন্তের শুরুতেই এদের ডাক বেশি শোনা যায়। বিশেষ করে শহরের গাছপালায় ভরা এলাকা, গ্রামাঞ্চলের আম-কাঁঠালের বাগান এবং বনভূমির কাছাকাছি এলাকায় কোকিলের উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা যায়। পাখিটির ডাক অনেক দূর পর্যন্ত শোনা যায় এবং এই সুরই বসন্তের আগমনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
পাখিবিদদের মতে, বসন্তকাল কোকিলের প্রজননের সময়। এই সময়ে পুরুষ কোকিল স্ত্রী কোকিলকে আকৃষ্ট করতে বারবার ডাকতে থাকে। কোকিলের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো তারা নিজেরা বাসা তৈরি করে না; বরং অন্য পাখির বাসায় ডিম পাড়ে। বাংলাদেশে সাধারণত House Crow বা কাকের বাসায় কোকিল ডিম পাড়ে বলে জানা যায়। পরে কাক সেই ডিমে তা দেয় এবং বাচ্চা বড় করে।
কোকিল মূলত ফল, পোকামাকড় ও বিভিন্ন ধরনের কীট খেয়ে থাকে। ফলে কৃষি জমির ক্ষতিকর পোকা কমাতেও তারা সহায়ক ভূমিকা রাখে। পরিবেশবিদদের মতে, কোকিলের উপস্থিতি একটি সুস্থ পরিবেশেরও ইঙ্গিত দেয়।
বসন্তের কোকিল শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়ায় না, মানুষের মনে জাগায় নতুন আশার সুর। তাই প্রকৃতির এই সুরকে টিকিয়ে রাখতে পরিবেশ সংরক্ষণ ও গাছপালা রক্ষার উদ্যোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
nityosongbad.com
নিত্য সংবাদ (খবরের সঠিক প্রতিচ্ছবি), সম্পাদক: বি এম আবুল হাসনাত, নির্বাহী সম্পাদক: আশিকুর রহমান, প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত © স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬