বি এম আবুল হাসনাত বাপ্পী, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা-গাউছিয়া এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ফুটপাত ও সড়কের একাংশ আবারও হকারদের দখলে চলে গেছে। মহাসড়কের দুই পাশে কাঁচাবাজার, মাছ, সবজি, কাপড়, জুতা ও ফলমূলের দোকান বসিয়ে চলছে বেচাকেনা। পাশাপাশি ভ্যানগাড়িতে পণ্য বিক্রি করায় সংকুচিত হয়ে পড়েছে যান চলাচলের জায়গা। এতে প্রতিদিন তীব্র যানজটের পাশাপাশি চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রী, পথচারী ও চালকদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভুলতা হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের পাশেই মহাসড়কের দুই পাশে বসেছে অসংখ্য ভাসমান দোকান। সাওঘাট থেকে ভুলতা পর্যন্ত সড়কের এক পাশে কাঁচাবাজার এবং অন্য পাশে কাপড়, জুতা ও ফলের দোকান রয়েছে। ভুলতা ও গোলাকান্দাইল ফ্লাইওভারের নিচেও কলা, ডাব ও আখসহ বিভিন্ন পণ্যের শতাধিক ভাসমান দোকান বসেছে। গোলাকান্দাইল মফিজ প্লাজা থেকে গাউছিয়া মার্কেট ও রেদোয়ান টাওয়ার পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এসব দোকানের বেচাকেনা।
এদিকে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পিকআপ ভ্যান, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও প্রাইভেটকারের স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। এর সঙ্গে উল্টো পথে যানবাহন চলাচলের কারণে নিয়মিত যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ দখল হয়ে থাকায় স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়ক ও ফুটপাত দখল করে দোকান বসানোর ক্ষেত্রে একটি অবৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছে। নতুন দোকান বসাতে অগ্রিম ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এ ছাড়া পরিচ্ছন্নতার খরচের কথা বলে প্রতিদিন দোকানপ্রতি ৩০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত করা যাচ্ছে না মহাসড়কটি। গত বছর রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন দুই থেকে তিন দফা এবং চলতি বছরের মার্চ-এপ্রিল মাসেও কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করে। কিন্তু অভিযানের কয়েক দিন পরই আবারও আগের অবস্থায় ফিরে যায় এলাকা। ফলে বছরের অধিকাংশ সময় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা থেকে বরপা ও রূপসী পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে। এর সঙ্গে মহাসড়কের সংস্কার ও প্রশস্তকরণের কাজও যানজটের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন অনেকে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ গোলাম ফারুক খোকন বলেন, “ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সড়ক বেদখল হয়ে থাকা কারও কাম্য নয়। যেকোনো মূল্যে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন নিয়মিত নজরদারি করলে পথচারী ও যাত্রীদের চলাচল সহজ হবে।”
ভুলতা হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, “মহাসড়কের নিরাপত্তার স্বার্থে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শেষ হলে যানজট কমবে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হলে যানজট নিরসন আরও সহজ হবে।”
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা এলাকায় অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম আব্দুল্লাহ-বিন-শফিক বলেন, “গত মাসে এখানে যোগদানের পর জনদুর্ভোগ নিরসনে মহাসড়কের অবৈধ দখল পরিস্থিতি সরেজমিনে চার দিন পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। শিগগিরই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে। দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু বলেন, “বিএনপি সব সময় জনকল্যাণে কাজ করে। জনদুর্ভোগ কমাতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অবৈধ দখলদারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে স্থায়ীভাবে যানজট নিরসন করতে হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েই দায়িত্ব শেষ করলে হবে না; মহাসড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি চাঁদাবাজির অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে ভুলতা-গাউছিয়া এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট ও জনদুর্ভোগ কমানো সম্ভব হবে।
nityosongbad.com
নিত্য সংবাদ (খবরের সঠিক প্রতিচ্ছবি), সম্পাদক: বি এম আবুল হাসনাত, নির্বাহী সম্পাদক: আশিকুর রহমান, প্রকাশক কর্তৃক ঢাকা থেকে প্রকাশিত © স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬