ইয়াবার থাবায় বিপর্যস্ত তরুণ সমাজ—আসক্তিতে বাড়ছে অপরাধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
- আপডেট সময় : ০১:৪১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬ ৩০৩ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদন:
দেশজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ইয়াবা আসক্তি, বিশেষ করে যুব ও কিশোরদের মধ্যে। একসময় সীমিত পরিসরে থাকা এই মাদক এখন শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। সহজলভ্যতা, বন্ধুমহলের প্রভাব এবং কৌতূহল—সব মিলিয়ে তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়াবা মূলত মেথামফেটামিন ও ক্যাফেইনের সংমিশ্রণে তৈরি এক ধরনের মারাত্মক উত্তেজক মাদক। এটি সেবনের ফলে ব্যবহারকারীর মধ্যে সাময়িক আনন্দ, শক্তি ও আত্মবিশ্বাস বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব অত্যন্ত ক্ষতিকর।
ইয়াবা সেবনের মানব দেহে উদ্বেগ, বিষণ্নতা, হ্যালুসিনেশন ও স্মৃতিশক্তি হ্রাস, অনিদ্রা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, ওজন কমে যাওয়া, আক্রমণাত্মক আচরণ দেখা যায়। তাছাড়া ইয়াবা সেবনের কারণে পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্নতা, অর্থের যোগান দিতে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে যুব সমাজ। তাছাড়া দীর্ঘদিন ইয়াবা সেবনের ফলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়, যা একজন তরুণকে স্থায়ীভাবে অক্ষম করে তুলতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন কারণে তরুণরা ইয়াবার দিকে ঝুঁকছে। তার মধ্যে বন্ধুমহলের প্রভাব ও কৌতূহল, পারিবারিক অবহেলা, হতাশা ও বেকারত্ব, সহজলভ্যতা ও অপরাধচক্রের সক্রিয়তা, অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া কিশোররাও অল্প বয়সেই এই মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়ছে।
ইয়াবা প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তার মধ্যে পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, আইন প্রয়োগ জোরদার, পুনর্বাসন ব্যবস্থা, সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার মাধ্যমে ইয়াবা করাল গ্রাস থেকে যুব সমাজকে প্রতিকার করা সম্ভব।
ইয়াবার ভয়াল থাবা থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র একযোগে কাজ না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই এখনই প্রয়োজন সচেতনতা, প্রতিরোধ এবং কার্যকর উদ্যোগ।



















