ঢাকা, বাংলাদেশ ০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
দিনাজপুরে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তে বিজিবি তারাবো পৌর বিএনপির সভাপতি তাশিক হক ওসমানের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ রাজশাহী বাঘা উপজেলার আরিফপুরে একই বিছানায় স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার দিনাজপুরে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও সদর ট্রাফিক পুলিশের কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত রাজশাহীর বাঘায় ১জন মাদক ব্যবসায়ী ও বলাৎকার মামলার অভিযুক্ত গ্রেপ্তার  বিয়ে ছাড়াই একসঙ্গে বসবাসের পর টাকা নিয়ে উধাও প্রেমিকা, থানায় অভিযোগ দায়ের দিনাজপুরে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি রূপগঞ্জে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে গার্মেন্টস শ্রমিক গ্রেপ্তার রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ২০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা রূপগঞ্জে চালককে বেঁধে মারধর করে অটোরিকশা ছিনতাই

জরাজীর্ণ টিনের ঘরেই চলছে পাঠদান কার্যক্রম, বিনা বেতনে পড়াচ্ছেন শিক্ষকরা ।। রূপগঞ্জে ভায়েলা-মিয়াবাড়ি বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘ ৩২ বছরেও সরকারীকরণ হয়নি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ২১৫ বার পড়া হয়েছে
376

নিত্য সংবাদ প্রতিবেদক:

এভাবেই ভাঙ্গা জরাজীর্ণ টিনের ঘরে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। একটু বৃষ্টি হলেই বন্ধ হয়ে যায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান। এই চিত্রটি নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার ভায়েলা মিয়াবাড়ি বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। ভায়েলা, মিয়াবাড়ি, মুইরাবো, গোপালিয়াবাড়ী, আজিজ নগর এলাকা থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ৩-৪ কিলোমিটার দুরত্বে অবস্থিত হওয়ায় গরিব শিক্ষার্থীদের কাছে এই বিদ্যালয়ই একমাত্র শিক্ষা গ্রহণের কেন্দ্র।

জানা যায় ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠা হওয়া বিদ্যালয়টি এযাবৎকাল ধরে এভাবেই ভাঙ্গা টিনের ঘরে, ভাঙ্গা বেঞ্চে বসে কোনরকমে পাঠদান কার্যক্রম চলছে। নেই তেমন কোন সরকারি সহায়তা। শিক্ষকরাও পাঠদান করছে বিনা বেতনেই। প্রয়াত শিক্ষক সুফিয়া বেগম ও তার স্বামী হাজী আইয়ুব আলী ভূঁইয়া এলাকার হতদরিদ্র মানুষের সন্তানদের লেখাপড়ার চিন্তা করে ৩৩ শতাংশ জমি বিদ্যালয়টিকে দান করে। সেখানে চার কক্ষ বিশিষ্ট টিনের ঘর নির্মাণ করে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলে। দীর্ঘ ৩২ বছর পার হয়ে গেলেও এ বিদ্যালয়টি এখন পর্যন্ত সরকারীকরণ হয়নি। সরকার যায় আসে কিন্তু এ বিদ্যালয়টির দিকে কারো কোন সুনজর নেই।

বর্তমানে বিদ্যালয়টি আবু সুফিয়ান, শাহিনুর বেগম, রুবিয়া আক্তার ও সোনিয়া আকতার নামের চারজন শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। বিদ্যালয়টি ভাঙ্গাচুরা টিনের ঘর। শৌচাগার নেই, জানালা নেই, নেই বৈদ্যুতিক পাখাও। নেই শিক্ষকদের জন্য অফিসের চেয়ার টেবিল। দিনে রাতে মাদক সেবীদের আনাগোনায় অতিষ্ঠ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। নেই বাউন্ডারি। পাশের পুকুরের পানিতে পড়ে শিক্ষার্থীদের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে। সাধারণ প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে যেখানে উন্নত বিল্ডিং, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা ও শৌচাগার, সেখানে এই বিদ্যালয়ে নেই তেমন কোন বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও। অতি গরমের তাপদাহের মধ্যেও ছোট্ট শিশুরা নির্বিদাদে বিদ্যালয়ে ক্লাস করছে। এতে করে প্রায়শই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, তারা এ বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী ছিলেন। আর ওই মায়ায় তারা বছরের পর বছর বিনা বেতনে এলাকার হতদরিদ্র ঘরের সন্তানদের পড়াশোনা করিয়ে আসছেন। সরকারি সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত এই বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে বারবার লিখিতভাবে সরকারি করণের আবেদন জানিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি।

শিক্ষকরা অভিযোগ করে আরো জানান, স্থানীয় মাদক সেবীরা প্রায় সময় প্রকাশ্য দিবালোকে বিদ্যালয়ের আঙিনায় মাদক সেবন করতে আসছে। প্রতিবাদ করলেই নানাভাবে হুমকি দেয়া হয় শিক্ষকদের। বিদ্যালয়ের মালামাল চুরি করে নিয়ে যায় তারা।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে জানান, বৃষ্টি এলে শ্রেণিকক্ষে পানি এসে বই-খাতা ভিজে যায়। তাছাড়া বিদ্যালয়ে টয়লেট নেই। এতে শিক্ষার্থীদের সমস্যা হয়। প্রচন্ড গরমে ফ্যান নেই।

অভিভাবকরা জানান, আমাদের সন্তানদের পড়াশোনার জন্য একমাত্র ভরসা এই মিয়াবাড়ি-ভায়লা স্কুলটি। জরাজীর্ণ ও সরকারিভাবে সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত এই স্কুলটির পরিবর্তন চায় সকলে। তাহলে ঝরে যাওয়া কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার সুযোগ পাবে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সুফিয়ান বলেন, এলাকার দরিদ্র ঘরের ছেলেমেয়েদের জন্য আমাদের মন কাঁদে। যার কারণে বিনা বেতনে আমরা শিক্ষা কার্যক্রম এখনো চালু রেখেছি। আমার নিজের তিনজন ছেলে-মেয়ে এই স্কুলেই পড়াশোনা করে। স্কুলের শিক্ষার্থীদের মেধা অনেক ভালো। তারা ভালো রেজাল্ট করে। সরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে তারা আরো ভালো করবে। দরিদ্র ঘরের শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে আমাদের এমপি মুস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া দিপুর হাতে যেন সরকারিকরণসহ উন্নয়ন করা হয় ।

এই বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকারিভাবে যদি বরাদ্দ আসে তাহলে অচিরেই ওই স্কুলটিকে বরাদ্দ দেব এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য স্কুলটি সরকারিকরণ প্রয়োজন। আমাদের স্থানীয় সংসদ সদস্যর মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। ইনশাল্লাহ আমরা আশা করছি অচিরেই স্কুলটিকে সরকারিকরণ করতে পারব।

নারায়ণগঞ্জ-১ রূপগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বলেন, ৩২ বছরেও বিগত সরকারের আমলে  ভায়েলা-মিয়াবাড়ি  স্কুলটি সরকারিকরণ করা হয়নি এটি দুঃখজনক।  দ্রুত দলীয়ভাবে এবং সরকারিভাবে সরকারিকরণ করা হবে ইনশাআল্লাহ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

জরাজীর্ণ টিনের ঘরেই চলছে পাঠদান কার্যক্রম, বিনা বেতনে পড়াচ্ছেন শিক্ষকরা ।। রূপগঞ্জে ভায়েলা-মিয়াবাড়ি বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘ ৩২ বছরেও সরকারীকরণ হয়নি

আপডেট সময় : ০৩:০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
376

নিত্য সংবাদ প্রতিবেদক:

এভাবেই ভাঙ্গা জরাজীর্ণ টিনের ঘরে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। একটু বৃষ্টি হলেই বন্ধ হয়ে যায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান। এই চিত্রটি নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার ভায়েলা মিয়াবাড়ি বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। ভায়েলা, মিয়াবাড়ি, মুইরাবো, গোপালিয়াবাড়ী, আজিজ নগর এলাকা থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ৩-৪ কিলোমিটার দুরত্বে অবস্থিত হওয়ায় গরিব শিক্ষার্থীদের কাছে এই বিদ্যালয়ই একমাত্র শিক্ষা গ্রহণের কেন্দ্র।

জানা যায় ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠা হওয়া বিদ্যালয়টি এযাবৎকাল ধরে এভাবেই ভাঙ্গা টিনের ঘরে, ভাঙ্গা বেঞ্চে বসে কোনরকমে পাঠদান কার্যক্রম চলছে। নেই তেমন কোন সরকারি সহায়তা। শিক্ষকরাও পাঠদান করছে বিনা বেতনেই। প্রয়াত শিক্ষক সুফিয়া বেগম ও তার স্বামী হাজী আইয়ুব আলী ভূঁইয়া এলাকার হতদরিদ্র মানুষের সন্তানদের লেখাপড়ার চিন্তা করে ৩৩ শতাংশ জমি বিদ্যালয়টিকে দান করে। সেখানে চার কক্ষ বিশিষ্ট টিনের ঘর নির্মাণ করে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলে। দীর্ঘ ৩২ বছর পার হয়ে গেলেও এ বিদ্যালয়টি এখন পর্যন্ত সরকারীকরণ হয়নি। সরকার যায় আসে কিন্তু এ বিদ্যালয়টির দিকে কারো কোন সুনজর নেই।

বর্তমানে বিদ্যালয়টি আবু সুফিয়ান, শাহিনুর বেগম, রুবিয়া আক্তার ও সোনিয়া আকতার নামের চারজন শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। বিদ্যালয়টি ভাঙ্গাচুরা টিনের ঘর। শৌচাগার নেই, জানালা নেই, নেই বৈদ্যুতিক পাখাও। নেই শিক্ষকদের জন্য অফিসের চেয়ার টেবিল। দিনে রাতে মাদক সেবীদের আনাগোনায় অতিষ্ঠ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। নেই বাউন্ডারি। পাশের পুকুরের পানিতে পড়ে শিক্ষার্থীদের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে। সাধারণ প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে যেখানে উন্নত বিল্ডিং, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা ও শৌচাগার, সেখানে এই বিদ্যালয়ে নেই তেমন কোন বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও। অতি গরমের তাপদাহের মধ্যেও ছোট্ট শিশুরা নির্বিদাদে বিদ্যালয়ে ক্লাস করছে। এতে করে প্রায়শই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, তারা এ বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী ছিলেন। আর ওই মায়ায় তারা বছরের পর বছর বিনা বেতনে এলাকার হতদরিদ্র ঘরের সন্তানদের পড়াশোনা করিয়ে আসছেন। সরকারি সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত এই বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা। জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে বারবার লিখিতভাবে সরকারি করণের আবেদন জানিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি।

শিক্ষকরা অভিযোগ করে আরো জানান, স্থানীয় মাদক সেবীরা প্রায় সময় প্রকাশ্য দিবালোকে বিদ্যালয়ের আঙিনায় মাদক সেবন করতে আসছে। প্রতিবাদ করলেই নানাভাবে হুমকি দেয়া হয় শিক্ষকদের। বিদ্যালয়ের মালামাল চুরি করে নিয়ে যায় তারা।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে জানান, বৃষ্টি এলে শ্রেণিকক্ষে পানি এসে বই-খাতা ভিজে যায়। তাছাড়া বিদ্যালয়ে টয়লেট নেই। এতে শিক্ষার্থীদের সমস্যা হয়। প্রচন্ড গরমে ফ্যান নেই।

অভিভাবকরা জানান, আমাদের সন্তানদের পড়াশোনার জন্য একমাত্র ভরসা এই মিয়াবাড়ি-ভায়লা স্কুলটি। জরাজীর্ণ ও সরকারিভাবে সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত এই স্কুলটির পরিবর্তন চায় সকলে। তাহলে ঝরে যাওয়া কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার সুযোগ পাবে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সুফিয়ান বলেন, এলাকার দরিদ্র ঘরের ছেলেমেয়েদের জন্য আমাদের মন কাঁদে। যার কারণে বিনা বেতনে আমরা শিক্ষা কার্যক্রম এখনো চালু রেখেছি। আমার নিজের তিনজন ছেলে-মেয়ে এই স্কুলেই পড়াশোনা করে। স্কুলের শিক্ষার্থীদের মেধা অনেক ভালো। তারা ভালো রেজাল্ট করে। সরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে তারা আরো ভালো করবে। দরিদ্র ঘরের শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে আমাদের এমপি মুস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া দিপুর হাতে যেন সরকারিকরণসহ উন্নয়ন করা হয় ।

এই বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকারিভাবে যদি বরাদ্দ আসে তাহলে অচিরেই ওই স্কুলটিকে বরাদ্দ দেব এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য স্কুলটি সরকারিকরণ প্রয়োজন। আমাদের স্থানীয় সংসদ সদস্যর মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। ইনশাল্লাহ আমরা আশা করছি অচিরেই স্কুলটিকে সরকারিকরণ করতে পারব।

নারায়ণগঞ্জ-১ রূপগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বলেন, ৩২ বছরেও বিগত সরকারের আমলে  ভায়েলা-মিয়াবাড়ি  স্কুলটি সরকারিকরণ করা হয়নি এটি দুঃখজনক।  দ্রুত দলীয়ভাবে এবং সরকারিভাবে সরকারিকরণ করা হবে ইনশাআল্লাহ।