ঢাকা, বাংলাদেশ ০৮:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
দিনাজপুরে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তে বিজিবি তারাবো পৌর বিএনপির সভাপতি তাশিক হক ওসমানের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ রাজশাহী বাঘা উপজেলার আরিফপুরে একই বিছানায় স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার দিনাজপুরে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও সদর ট্রাফিক পুলিশের কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত রাজশাহীর বাঘায় ১জন মাদক ব্যবসায়ী ও বলাৎকার মামলার অভিযুক্ত গ্রেপ্তার  বিয়ে ছাড়াই একসঙ্গে বসবাসের পর টাকা নিয়ে উধাও প্রেমিকা, থানায় অভিযোগ দায়ের দিনাজপুরে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি রূপগঞ্জে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে গার্মেন্টস শ্রমিক গ্রেপ্তার রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ২০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা রূপগঞ্জে চালককে বেঁধে মারধর করে অটোরিকশা ছিনতাই

চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ পদক্ষেপ ঘোষণা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
46

সবুজার রহমান সবুজ, স্টাফ রিপোর্টার:
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলায় সৃষ্ট দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ১০ দফা জরুরি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে নিজের ফেসবুক পোস্টে “চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত ১০টি উদ্যোগ” শিরোনামে এসব পদক্ষেপের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
মাহদী আমিন জানান, দুর্যোগের শুরু থেকেই প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংসদ সদস্যদের সমন্বিতভাবে উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মুখপাত্র জানান, চট্টগ্রাম বিভাগের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ইতোমধ্যে ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছেন।
ত্রাণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই পাঁচ জেলার জন্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা নগদ অনুদান এবং ৩ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়ে দ্রুত দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
সরকারের উদ্যোগে দুর্গত এলাকায় নিরাপদ সুপেয় পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য এবং তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে অবস্থান করছেন।
মাহদী আমিন জানান, সরকারের প্রশাসন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায় থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত একযোগে কাজ করছেন।
চলমান ভারী বর্ষণ, বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে দুর্গত এলাকার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া দুর্যোগে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম–দোহাজারী রেলপথের ঝুঁকি কমাতে ৪৭ কিলোমিটার রেললাইন ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে বসবাসকারী মানুষের জন্য নিরাপদ স্থানে স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত, মানবিক উদ্যোগ এবং সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বর্তমান দুর্যোগ পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে সরকার আশাবাদী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী গভীর দায়বদ্ধতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছেন এবং জনগণের সরকার সবসময় দুর্যোগে আক্রান্ত মানুষের সেবায় কাজ করে যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ পদক্ষেপ ঘোষণা

আপডেট সময় : ১০:৫৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
46

সবুজার রহমান সবুজ, স্টাফ রিপোর্টার:
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলায় সৃষ্ট দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ১০ দফা জরুরি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে নিজের ফেসবুক পোস্টে “চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত ১০টি উদ্যোগ” শিরোনামে এসব পদক্ষেপের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
মাহদী আমিন জানান, দুর্যোগের শুরু থেকেই প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংসদ সদস্যদের সমন্বিতভাবে উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মুখপাত্র জানান, চট্টগ্রাম বিভাগের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ইতোমধ্যে ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছেন।
ত্রাণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই পাঁচ জেলার জন্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা নগদ অনুদান এবং ৩ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়ে দ্রুত দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
সরকারের উদ্যোগে দুর্গত এলাকায় নিরাপদ সুপেয় পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য এবং তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে অবস্থান করছেন।
মাহদী আমিন জানান, সরকারের প্রশাসন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায় থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত একযোগে কাজ করছেন।
চলমান ভারী বর্ষণ, বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে দুর্গত এলাকার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া দুর্যোগে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন।
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম–দোহাজারী রেলপথের ঝুঁকি কমাতে ৪৭ কিলোমিটার রেললাইন ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে বসবাসকারী মানুষের জন্য নিরাপদ স্থানে স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত, মানবিক উদ্যোগ এবং সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বর্তমান দুর্যোগ পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে সরকার আশাবাদী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী গভীর দায়বদ্ধতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছেন এবং জনগণের সরকার সবসময় দুর্যোগে আক্রান্ত মানুষের সেবায় কাজ করে যাবে।