ঢাকা, বাংলাদেশ ০১:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
ফুলবাড়ীতে ৬৪ হাজার ৩৫০ টাকার যৌন উত্তেজক সিরাপ জব্দ দিনাজপুরে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তে বিজিবি তারাবো পৌর বিএনপির সভাপতি তাশিক হক ওসমানের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ রাজশাহী বাঘা উপজেলার আরিফপুরে একই বিছানায় স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার দিনাজপুরে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও সদর ট্রাফিক পুলিশের কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত রাজশাহীর বাঘায় ১জন মাদক ব্যবসায়ী ও বলাৎকার মামলার অভিযুক্ত গ্রেপ্তার  বিয়ে ছাড়াই একসঙ্গে বসবাসের পর টাকা নিয়ে উধাও প্রেমিকা, থানায় অভিযোগ দায়ের দিনাজপুরে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি রূপগঞ্জে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে গার্মেন্টস শ্রমিক গ্রেপ্তার রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ২০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

রূপগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে পিতার পর দগ্ধ পুত্রের মৃত্যু / বিদ্যুৎস্পৃষ্টে করণীয় / সচেতনতার অভাবে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬ ২৮৬ বার পড়া হয়েছে
390

নিত্য সংবাদ প্রতিবেদক :

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের গোলাকান্দাইল মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা পিতা আরফান মোল্লার(৫৫) পর এবার দগ্ধ পুত্র লিয়ন মোল্লার (৩৫) মৃত্যু হয়েছে । গতকাল ১৫ মার্চ রবিবার দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে । এ নিয়ে গোলাকান্দাইলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো তিন-এ। আজ বিকেলে গোলাকান্দাইল সামাজিক কবরস্থানে পাশাপাশি তাদের দাফন করা হয়েছে ।
নিজের নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে স্টিলের পাইপ বসানোর কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। গত ১৪ মার্চ শনিবার বিকেলে উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন বাজার এলাকায় ব্যবসায়ী মজিবর রহমানের বাড়ির পাশে চারতলা বাড়ির ছাদে মালিক আরফান মোল্লা(৫৫)স্টেইনলেস স্টিল (এসএস) পাইপ বসানোর কাজ করছিলেন । এ সময় পাইপটি পাশ দিয়ে যাওয়া উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুতের তারের সঙ্গে স্পর্শ করলে এ দুর্ঘটনা ঘটে । ঘটনাস্থলেই আরফান মোল্লার মৃত্যু হয়। এ সময় পাশে থাকা তার ছেলে লিয়ন মোল্লা ও মিস্ত্রি সাদিকুর রহমান বাড়ির মালিক আরফান মোল্লাকে বিদ্যুৎমুক্ত করতে গেলে তারা বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দগ্ধ হয়।৷ পরে তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে হ ভর্তি করা হলে শনিবার সন্ধ্যায় মিস্ত্রি সাদিকুর রহমানের মৃত্যু হয়। গতকাল রবিবার দুপুরের দিকে আরফান মোল্লার ছেলে লিয়ন মোল্লার মৃত্যু হয়। তাদের সকলের বাড়ি গোলাকান্দাইল এলাকায়।
রূপগঞ্জ থানা ওসি মোহাম্মদ সবজেল হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল পুলিশ পরিদর্শন করেছে। বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দগ্ধ তিন জনের মৃত্যু হয়েছে ।
নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম রাজা ঘোষ বলেন, শুধুমাত্র অসচেতনতার কারণে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃতের সংখ্যা বেড়ে যায় । একজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে অন্যরা ছাড়তে গিয়ে তারা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে । অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিলে যেকোনো সময় তড়িতাহত হয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিদ্যুৎপ্রবাহ বা কারেন্ট দুই ধরণের। এসি কারেন্ট ও ডিসি কারেন্ট। এসি কারেন্ট আকর্ষণ করে টেনে নেয়। ডিসি কারেন্ট শুধু ধাক্কা মারে। সে জন্য এসি কারেন্ট বেশি মারাত্মক। ভেজা কাপড় বা গাছের সাথে বিদ্যুৎপ্রবাহের সংযোগের ফলে দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এগুলো স্পর্শ করলে নিজেও তড়িতাহত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।বৈদ্যুতিক শক হতে পারে মৃত্যুর কারণ:মূলত ভোল্টেজই ইলেকট্রিক শকের দ্বারা মৃত্যুর জন্য দায়ী। ভোল্টেজ বেশি হলেই প্রচুর পরিমাণ চার্জ দ্রুত বেগে প্রবাহিত হতে পারে। মানুষের শরীরের ৭০ ভাগই পানি। তাই মানুষ বিদ্যুতের জন্য সুপরিবাহক। হাই ভোল্টেজের কারেন্ট মানুষের হার্টবিটকে বাধা দেয়। হার্টকে নিজের মত চলতে দেয়না। তাই হার্ট এটাক হতে পারে। এছাড়া শরীর পুড়ে যাওয়া, ব্রেন ড্যামেজ এমনকি শ্বাস-প্রশ্বাসেও সমস্যা দেখা দেয়। একারণেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে। কারো শরীরে বিদ্যুতের তার জড়িয়ে গেলে বা কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে সাথে সাথে মেইন সুইচ বন্ধ করে দিতে হবে। কোনো কারণে সুইচ বন্ধ করতে না পারলে শুকনাকাঠ দিয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে ছাড়িয়ে দিতে হবে। কাঠ না পেলে শুকনা কাপড় হাতে জড়িয়ে ধাক্কা দিতে হবে। কখনো খালি হাতে ধরলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বিপদ ঘটতে পারে। কখনো গায়ে পানি দেবে না। শ্বাসক্রিয়া না চললে কৃত্রিমভাবে শ্বাসকার্য চালাতে হবে। পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রূপগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে পিতার পর দগ্ধ পুত্রের মৃত্যু / বিদ্যুৎস্পৃষ্টে করণীয় / সচেতনতার অভাবে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে

আপডেট সময় : ০৮:০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
390

নিত্য সংবাদ প্রতিবেদক :

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের গোলাকান্দাইল মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা পিতা আরফান মোল্লার(৫৫) পর এবার দগ্ধ পুত্র লিয়ন মোল্লার (৩৫) মৃত্যু হয়েছে । গতকাল ১৫ মার্চ রবিবার দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে । এ নিয়ে গোলাকান্দাইলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো তিন-এ। আজ বিকেলে গোলাকান্দাইল সামাজিক কবরস্থানে পাশাপাশি তাদের দাফন করা হয়েছে ।
নিজের নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে স্টিলের পাইপ বসানোর কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। গত ১৪ মার্চ শনিবার বিকেলে উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন বাজার এলাকায় ব্যবসায়ী মজিবর রহমানের বাড়ির পাশে চারতলা বাড়ির ছাদে মালিক আরফান মোল্লা(৫৫)স্টেইনলেস স্টিল (এসএস) পাইপ বসানোর কাজ করছিলেন । এ সময় পাইপটি পাশ দিয়ে যাওয়া উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুতের তারের সঙ্গে স্পর্শ করলে এ দুর্ঘটনা ঘটে । ঘটনাস্থলেই আরফান মোল্লার মৃত্যু হয়। এ সময় পাশে থাকা তার ছেলে লিয়ন মোল্লা ও মিস্ত্রি সাদিকুর রহমান বাড়ির মালিক আরফান মোল্লাকে বিদ্যুৎমুক্ত করতে গেলে তারা বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দগ্ধ হয়।৷ পরে তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে হ ভর্তি করা হলে শনিবার সন্ধ্যায় মিস্ত্রি সাদিকুর রহমানের মৃত্যু হয়। গতকাল রবিবার দুপুরের দিকে আরফান মোল্লার ছেলে লিয়ন মোল্লার মৃত্যু হয়। তাদের সকলের বাড়ি গোলাকান্দাইল এলাকায়।
রূপগঞ্জ থানা ওসি মোহাম্মদ সবজেল হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল পুলিশ পরিদর্শন করেছে। বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দগ্ধ তিন জনের মৃত্যু হয়েছে ।
নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম রাজা ঘোষ বলেন, শুধুমাত্র অসচেতনতার কারণে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃতের সংখ্যা বেড়ে যায় । একজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে অন্যরা ছাড়তে গিয়ে তারা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে । অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিলে যেকোনো সময় তড়িতাহত হয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিদ্যুৎপ্রবাহ বা কারেন্ট দুই ধরণের। এসি কারেন্ট ও ডিসি কারেন্ট। এসি কারেন্ট আকর্ষণ করে টেনে নেয়। ডিসি কারেন্ট শুধু ধাক্কা মারে। সে জন্য এসি কারেন্ট বেশি মারাত্মক। ভেজা কাপড় বা গাছের সাথে বিদ্যুৎপ্রবাহের সংযোগের ফলে দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এগুলো স্পর্শ করলে নিজেও তড়িতাহত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।বৈদ্যুতিক শক হতে পারে মৃত্যুর কারণ:মূলত ভোল্টেজই ইলেকট্রিক শকের দ্বারা মৃত্যুর জন্য দায়ী। ভোল্টেজ বেশি হলেই প্রচুর পরিমাণ চার্জ দ্রুত বেগে প্রবাহিত হতে পারে। মানুষের শরীরের ৭০ ভাগই পানি। তাই মানুষ বিদ্যুতের জন্য সুপরিবাহক। হাই ভোল্টেজের কারেন্ট মানুষের হার্টবিটকে বাধা দেয়। হার্টকে নিজের মত চলতে দেয়না। তাই হার্ট এটাক হতে পারে। এছাড়া শরীর পুড়ে যাওয়া, ব্রেন ড্যামেজ এমনকি শ্বাস-প্রশ্বাসেও সমস্যা দেখা দেয়। একারণেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে। কারো শরীরে বিদ্যুতের তার জড়িয়ে গেলে বা কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে সাথে সাথে মেইন সুইচ বন্ধ করে দিতে হবে। কোনো কারণে সুইচ বন্ধ করতে না পারলে শুকনাকাঠ দিয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে ছাড়িয়ে দিতে হবে। কাঠ না পেলে শুকনা কাপড় হাতে জড়িয়ে ধাক্কা দিতে হবে। কখনো খালি হাতে ধরলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বিপদ ঘটতে পারে। কখনো গায়ে পানি দেবে না। শ্বাসক্রিয়া না চললে কৃত্রিমভাবে শ্বাসকার্য চালাতে হবে। পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।