ঢাকা, বাংলাদেশ ১০:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
ফুলবাড়ীতে ৬৪ হাজার ৩৫০ টাকার যৌন উত্তেজক সিরাপ জব্দ দিনাজপুরে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তে বিজিবি তারাবো পৌর বিএনপির সভাপতি তাশিক হক ওসমানের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ রাজশাহী বাঘা উপজেলার আরিফপুরে একই বিছানায় স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার দিনাজপুরে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও সদর ট্রাফিক পুলিশের কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত রাজশাহীর বাঘায় ১জন মাদক ব্যবসায়ী ও বলাৎকার মামলার অভিযুক্ত গ্রেপ্তার  বিয়ে ছাড়াই একসঙ্গে বসবাসের পর টাকা নিয়ে উধাও প্রেমিকা, থানায় অভিযোগ দায়ের দিনাজপুরে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি রূপগঞ্জে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে গার্মেন্টস শ্রমিক গ্রেপ্তার রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ২০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

পহেলা বৈশাখ: বাংলা সনের সূচনা, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গভীর প্রেক্ষাপট

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫১:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ২৫১ বার পড়া হয়েছে
444

বিশেষ প্রতিবেদন:
বাংলা সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান উৎসব পহেলা বৈশাখ। প্রতি বছর ১৪ এপ্রিল (বাংলাদেশে) উদযাপিত এই দিনটি শুধু নতুন বছরের সূচনাই নয়, বরং বাঙালির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। বাংলা সাল বা বঙ্গাব্দের সূচনা কীভাবে হয়েছিল—তা নিয়ে রয়েছে সমৃদ্ধ ইতিহাস।
ইতিহাসবিদদের মতে, বাংলা সনের প্রবর্তন করেন মুঘল সম্রাট আকবর। তাঁর শাসনামলে কৃষকদের কাছ থেকে খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে একটি নতুন সনের প্রয়োজন দেখা দেয়। সে সময় প্রচলিত হিজরি সন ছিল চাঁদের উপর ভিত্তি করে, ফলে কৃষি মৌসুমের সঙ্গে এর মিল থাকত না।
এই সমস্যার সমাধানে ফতেহউল্লাহ সিরাজী নামের একজন জ্যোতির্বিদ সৌর বছরের সঙ্গে হিজরি সনের সমন্বয় করে বাংলা সনের প্রবর্তন করেন। ধারণা করা হয়, ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে এই বাংলা সনের গণনা শুরু হয়।
বাংলা সনের প্রথম দিন ‘পহেলা বৈশাখ’ হিসেবে পরিচিত। এই দিনে ব্যবসায়ীরা ‘হালখাতা’ খুলে নতুন হিসাব শুরু করতেন। গ্রামবাংলায় কৃষকেরা নতুন ফসলের আশায় নতুন বছরকে স্বাগত জানাতেন।
বর্তমানে পহেলা বৈশাখ একটি সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এই দিনটি উদযাপন করে।
পহেলা বৈশাখের প্রধান আকর্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে মঙ্গল শোভাযাত্রা, বৈশাখী মেলা, পান্তা-ইলিশ খাওয়া এবং লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদ আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রা বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পেয়েছে এবং এটি ইউনেস্কো-এর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
বাংলাদেশে বাংলা একাডেমির সংশোধিত পঞ্জিকা অনুযায়ী প্রতি বছর ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হয়। এটি এখন জাতীয় জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে দিনটি পালন করা হয়।
পহেলা বৈশাখ শুধু একটি দিন নয়, এটি বাঙালির ইতিহাস, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি। মুঘল আমলের প্রশাসনিক প্রয়োজন থেকে শুরু হয়ে আজ এটি বাঙালির সার্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। বাংলা সনের এই যাত্রা আমাদের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতাকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পহেলা বৈশাখ: বাংলা সনের সূচনা, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গভীর প্রেক্ষাপট

আপডেট সময় : ১২:৫১:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
444

বিশেষ প্রতিবেদন:
বাংলা সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান উৎসব পহেলা বৈশাখ। প্রতি বছর ১৪ এপ্রিল (বাংলাদেশে) উদযাপিত এই দিনটি শুধু নতুন বছরের সূচনাই নয়, বরং বাঙালির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। বাংলা সাল বা বঙ্গাব্দের সূচনা কীভাবে হয়েছিল—তা নিয়ে রয়েছে সমৃদ্ধ ইতিহাস।
ইতিহাসবিদদের মতে, বাংলা সনের প্রবর্তন করেন মুঘল সম্রাট আকবর। তাঁর শাসনামলে কৃষকদের কাছ থেকে খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে একটি নতুন সনের প্রয়োজন দেখা দেয়। সে সময় প্রচলিত হিজরি সন ছিল চাঁদের উপর ভিত্তি করে, ফলে কৃষি মৌসুমের সঙ্গে এর মিল থাকত না।
এই সমস্যার সমাধানে ফতেহউল্লাহ সিরাজী নামের একজন জ্যোতির্বিদ সৌর বছরের সঙ্গে হিজরি সনের সমন্বয় করে বাংলা সনের প্রবর্তন করেন। ধারণা করা হয়, ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে এই বাংলা সনের গণনা শুরু হয়।
বাংলা সনের প্রথম দিন ‘পহেলা বৈশাখ’ হিসেবে পরিচিত। এই দিনে ব্যবসায়ীরা ‘হালখাতা’ খুলে নতুন হিসাব শুরু করতেন। গ্রামবাংলায় কৃষকেরা নতুন ফসলের আশায় নতুন বছরকে স্বাগত জানাতেন।
বর্তমানে পহেলা বৈশাখ একটি সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এই দিনটি উদযাপন করে।
পহেলা বৈশাখের প্রধান আকর্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে মঙ্গল শোভাযাত্রা, বৈশাখী মেলা, পান্তা-ইলিশ খাওয়া এবং লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদ আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রা বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পেয়েছে এবং এটি ইউনেস্কো-এর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
বাংলাদেশে বাংলা একাডেমির সংশোধিত পঞ্জিকা অনুযায়ী প্রতি বছর ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হয়। এটি এখন জাতীয় জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে দিনটি পালন করা হয়।
পহেলা বৈশাখ শুধু একটি দিন নয়, এটি বাঙালির ইতিহাস, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি। মুঘল আমলের প্রশাসনিক প্রয়োজন থেকে শুরু হয়ে আজ এটি বাঙালির সার্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। বাংলা সনের এই যাত্রা আমাদের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতাকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।