ঢাকা, বাংলাদেশ ১১:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
দিনাজপুরে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তে বিজিবি তারাবো পৌর বিএনপির সভাপতি তাশিক হক ওসমানের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ রাজশাহী বাঘা উপজেলার আরিফপুরে একই বিছানায় স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার দিনাজপুরে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও সদর ট্রাফিক পুলিশের কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত রাজশাহীর বাঘায় ১জন মাদক ব্যবসায়ী ও বলাৎকার মামলার অভিযুক্ত গ্রেপ্তার  বিয়ে ছাড়াই একসঙ্গে বসবাসের পর টাকা নিয়ে উধাও প্রেমিকা, থানায় অভিযোগ দায়ের দিনাজপুরে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি রূপগঞ্জে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে গার্মেন্টস শ্রমিক গ্রেপ্তার রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ২০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা রূপগঞ্জে চালককে বেঁধে মারধর করে অটোরিকশা ছিনতাই

রাজশাহী বাঘায় পদ্মার চরাঞ্চলের আতংকের নাম বিল্লাল মূনতাজ বাহিনী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ ২৪৫ বার পড়া হয়েছে
334

স্টাফ রিপোর্টার:
রাজশাহী, নাটোর, কুষ্টিয়া ও পাবনা সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে সক্রিয় মণ্ডল বাহিনী (মুনতাজ/মোন্তাজ মণ্ডল গ্রুপ) এবং বেলাল বাহিনীর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে সাধারণ মানুষ। চরের জমি দখল, খড় কাটা এবং বালুমহালের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের রয়েছে সক্রিয় ত্রাস বাহিনী। ​
​সন্ত্রাসী বা অপরাধী বাহিনীগুলোর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক তালিকা না থাকায় তাদের সুনির্দিষ্ট মোট সদস্য সংখ্যা বলা কঠিন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী ​চরের মণ্ডলেরা মূলত বংশ ও গোত্রভিত্তিক দল গঠন করে চলে। সংঘর্ষের সময় তারা লাঠিয়াল এবং সশস্ত্র কর্মীসহ কয়েক ডজন (৩০ থেকে ৫০ জন বা তার বেশি) সক্রিয় সদস্য জড়ো করতে পারে।
​ পদ্মার চরের বেলাল গ্রুপটি মূলত স্থানীয় প্রভাবশালী বেলাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি বড় লাঠিয়াল ও অস্ত্রধারী দল হিসেবে কাজ করে। ​পদ্মার চরের ভৌগোলিক দুর্গমতাকে কাজে লাগিয়ে এই বাহিনীগুলো বেশ শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে।ভারতের সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় নদীপথে তারা খুব সহজেই আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, এমনকি একে-৪৭ সদৃশ ভারী অস্ত্রও চরাঞ্চলে নিয়ে আসে। সাম্প্রতিক সংঘর্ষগুলোতে তারা প্রতিপক্ষকে ট্র্যাক করার জন্য আধুনিক ড্রোন ক্যামেরা পর্যন্ত ব্যবহার করেছে। এমনকি বড় বড় চারটি সন্ত্রাসী বাহিনী একত্রিত হয়েছে তাদের বাহিনীটি শক্তিশালী করার জন্য।
তবে স্থানীয় গণমাধ্যম ও সংবাদের তথ্যানুযায়ী, পদ্মার চরের অন্যতম আরেকটি আলোচিত দল হলো নাহারুল বাহিনী। এই বাহিনীতে দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়ন ও ফিলিপনগর ইউনিয়নের এবং রাজশাহী বাঘা থানার বেশ কিছু সন্ত্রাসী জড়িত আছে। নদীপথে দ্রুত যাতায়াত এবং আক্রমণের জন্য তাদের নিজস্ব বেশ কয়েকটি শক্তিশালী স্পিডবোট রয়েছে। এক চরে অপরাধ করে তারা দ্রুত স্পিডবোট নিয়ে অন্য চরে বা অন্য জেলার সীমানায় পালিয়ে যায়। চার জেলার (রাজশাহী, নাটোর, পাবনা ও কুষ্টিয়া) সীমান্তবর্তী নদী ও চরের দুর্গমতার কারণে পুলিশ বা যৌথ বাহিনী এক দিক থেকে অভিযান চালালে তারা সহজেই অন্য জেলার সীমানায় বা সীমান্তের শূন্যরেখায় পালিয়ে যায়।
​শক্তিমত্তার দিক থেকে তারা এতটাই বেপরোয়া যে, সম্প্রতি (২০২৫ ও ২০২৬ সালে) বৈধ ইজারাপ্রাপ্ত বালু মহল দখলের জন্য এই মণ্ডল ও বেলাল গ্রুপ সহ ৪ টি সন্ত্রাসী বাহিনি এক হয়ে গত ৯ জুন ২০২৬ তারিখে বালির ঘাটে কর্মরত আজিজুল হক ঝড়ু নামের একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয় ও বেশ কয়েকজন আহত হয় এবং এর আট দিনের মাথায় ১৬ জুন ২০২৬ সাহাবুল নামে আরো একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তবে আজিজুল হক ঝড়ু হত্যা ঘটনায় নাটোর জেলা লালপুর থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে সেটা নৌ পুলিশ ঈশ্বরদী লক্ষীকুন্ডা ফাঁড়ীর উপ পুলিশ পরিদর্শক তদন্তভার পেয়েছেন।
এসব ত্রাস বাহিনীর কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। দ্রুত এ অবস্থা থেকে পরিত্রান পাওয়া প্রশাসনের কাছে তাদের প্রাণের দাবি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাজশাহী বাঘায় পদ্মার চরাঞ্চলের আতংকের নাম বিল্লাল মূনতাজ বাহিনী

আপডেট সময় : ০৩:১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
334

স্টাফ রিপোর্টার:
রাজশাহী, নাটোর, কুষ্টিয়া ও পাবনা সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে সক্রিয় মণ্ডল বাহিনী (মুনতাজ/মোন্তাজ মণ্ডল গ্রুপ) এবং বেলাল বাহিনীর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে সাধারণ মানুষ। চরের জমি দখল, খড় কাটা এবং বালুমহালের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের রয়েছে সক্রিয় ত্রাস বাহিনী। ​
​সন্ত্রাসী বা অপরাধী বাহিনীগুলোর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক তালিকা না থাকায় তাদের সুনির্দিষ্ট মোট সদস্য সংখ্যা বলা কঠিন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী ​চরের মণ্ডলেরা মূলত বংশ ও গোত্রভিত্তিক দল গঠন করে চলে। সংঘর্ষের সময় তারা লাঠিয়াল এবং সশস্ত্র কর্মীসহ কয়েক ডজন (৩০ থেকে ৫০ জন বা তার বেশি) সক্রিয় সদস্য জড়ো করতে পারে।
​ পদ্মার চরের বেলাল গ্রুপটি মূলত স্থানীয় প্রভাবশালী বেলাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি বড় লাঠিয়াল ও অস্ত্রধারী দল হিসেবে কাজ করে। ​পদ্মার চরের ভৌগোলিক দুর্গমতাকে কাজে লাগিয়ে এই বাহিনীগুলো বেশ শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে।ভারতের সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় নদীপথে তারা খুব সহজেই আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, এমনকি একে-৪৭ সদৃশ ভারী অস্ত্রও চরাঞ্চলে নিয়ে আসে। সাম্প্রতিক সংঘর্ষগুলোতে তারা প্রতিপক্ষকে ট্র্যাক করার জন্য আধুনিক ড্রোন ক্যামেরা পর্যন্ত ব্যবহার করেছে। এমনকি বড় বড় চারটি সন্ত্রাসী বাহিনী একত্রিত হয়েছে তাদের বাহিনীটি শক্তিশালী করার জন্য।
তবে স্থানীয় গণমাধ্যম ও সংবাদের তথ্যানুযায়ী, পদ্মার চরের অন্যতম আরেকটি আলোচিত দল হলো নাহারুল বাহিনী। এই বাহিনীতে দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়ন ও ফিলিপনগর ইউনিয়নের এবং রাজশাহী বাঘা থানার বেশ কিছু সন্ত্রাসী জড়িত আছে। নদীপথে দ্রুত যাতায়াত এবং আক্রমণের জন্য তাদের নিজস্ব বেশ কয়েকটি শক্তিশালী স্পিডবোট রয়েছে। এক চরে অপরাধ করে তারা দ্রুত স্পিডবোট নিয়ে অন্য চরে বা অন্য জেলার সীমানায় পালিয়ে যায়। চার জেলার (রাজশাহী, নাটোর, পাবনা ও কুষ্টিয়া) সীমান্তবর্তী নদী ও চরের দুর্গমতার কারণে পুলিশ বা যৌথ বাহিনী এক দিক থেকে অভিযান চালালে তারা সহজেই অন্য জেলার সীমানায় বা সীমান্তের শূন্যরেখায় পালিয়ে যায়।
​শক্তিমত্তার দিক থেকে তারা এতটাই বেপরোয়া যে, সম্প্রতি (২০২৫ ও ২০২৬ সালে) বৈধ ইজারাপ্রাপ্ত বালু মহল দখলের জন্য এই মণ্ডল ও বেলাল গ্রুপ সহ ৪ টি সন্ত্রাসী বাহিনি এক হয়ে গত ৯ জুন ২০২৬ তারিখে বালির ঘাটে কর্মরত আজিজুল হক ঝড়ু নামের একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয় ও বেশ কয়েকজন আহত হয় এবং এর আট দিনের মাথায় ১৬ জুন ২০২৬ সাহাবুল নামে আরো একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তবে আজিজুল হক ঝড়ু হত্যা ঘটনায় নাটোর জেলা লালপুর থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে সেটা নৌ পুলিশ ঈশ্বরদী লক্ষীকুন্ডা ফাঁড়ীর উপ পুলিশ পরিদর্শক তদন্তভার পেয়েছেন।
এসব ত্রাস বাহিনীর কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। দ্রুত এ অবস্থা থেকে পরিত্রান পাওয়া প্রশাসনের কাছে তাদের প্রাণের দাবি।