রাজশাহী বাঘায় পদ্মার চরাঞ্চলের আতংকের নাম বিল্লাল মূনতাজ বাহিনী
- আপডেট সময় : ০৩:১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ ২৪৫ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার:
রাজশাহী, নাটোর, কুষ্টিয়া ও পাবনা সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে সক্রিয় মণ্ডল বাহিনী (মুনতাজ/মোন্তাজ মণ্ডল গ্রুপ) এবং বেলাল বাহিনীর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে সাধারণ মানুষ। চরের জমি দখল, খড় কাটা এবং বালুমহালের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের রয়েছে সক্রিয় ত্রাস বাহিনী।
সন্ত্রাসী বা অপরাধী বাহিনীগুলোর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক তালিকা না থাকায় তাদের সুনির্দিষ্ট মোট সদস্য সংখ্যা বলা কঠিন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী চরের মণ্ডলেরা মূলত বংশ ও গোত্রভিত্তিক দল গঠন করে চলে। সংঘর্ষের সময় তারা লাঠিয়াল এবং সশস্ত্র কর্মীসহ কয়েক ডজন (৩০ থেকে ৫০ জন বা তার বেশি) সক্রিয় সদস্য জড়ো করতে পারে।
পদ্মার চরের বেলাল গ্রুপটি মূলত স্থানীয় প্রভাবশালী বেলাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি বড় লাঠিয়াল ও অস্ত্রধারী দল হিসেবে কাজ করে। পদ্মার চরের ভৌগোলিক দুর্গমতাকে কাজে লাগিয়ে এই বাহিনীগুলো বেশ শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে।ভারতের সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় নদীপথে তারা খুব সহজেই আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, এমনকি একে-৪৭ সদৃশ ভারী অস্ত্রও চরাঞ্চলে নিয়ে আসে। সাম্প্রতিক সংঘর্ষগুলোতে তারা প্রতিপক্ষকে ট্র্যাক করার জন্য আধুনিক ড্রোন ক্যামেরা পর্যন্ত ব্যবহার করেছে। এমনকি বড় বড় চারটি সন্ত্রাসী বাহিনী একত্রিত হয়েছে তাদের বাহিনীটি শক্তিশালী করার জন্য।
তবে স্থানীয় গণমাধ্যম ও সংবাদের তথ্যানুযায়ী, পদ্মার চরের অন্যতম আরেকটি আলোচিত দল হলো নাহারুল বাহিনী। এই বাহিনীতে দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়ন ও ফিলিপনগর ইউনিয়নের এবং রাজশাহী বাঘা থানার বেশ কিছু সন্ত্রাসী জড়িত আছে। নদীপথে দ্রুত যাতায়াত এবং আক্রমণের জন্য তাদের নিজস্ব বেশ কয়েকটি শক্তিশালী স্পিডবোট রয়েছে। এক চরে অপরাধ করে তারা দ্রুত স্পিডবোট নিয়ে অন্য চরে বা অন্য জেলার সীমানায় পালিয়ে যায়। চার জেলার (রাজশাহী, নাটোর, পাবনা ও কুষ্টিয়া) সীমান্তবর্তী নদী ও চরের দুর্গমতার কারণে পুলিশ বা যৌথ বাহিনী এক দিক থেকে অভিযান চালালে তারা সহজেই অন্য জেলার সীমানায় বা সীমান্তের শূন্যরেখায় পালিয়ে যায়।
শক্তিমত্তার দিক থেকে তারা এতটাই বেপরোয়া যে, সম্প্রতি (২০২৫ ও ২০২৬ সালে) বৈধ ইজারাপ্রাপ্ত বালু মহল দখলের জন্য এই মণ্ডল ও বেলাল গ্রুপ সহ ৪ টি সন্ত্রাসী বাহিনি এক হয়ে গত ৯ জুন ২০২৬ তারিখে বালির ঘাটে কর্মরত আজিজুল হক ঝড়ু নামের একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয় ও বেশ কয়েকজন আহত হয় এবং এর আট দিনের মাথায় ১৬ জুন ২০২৬ সাহাবুল নামে আরো একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তবে আজিজুল হক ঝড়ু হত্যা ঘটনায় নাটোর জেলা লালপুর থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে সেটা নৌ পুলিশ ঈশ্বরদী লক্ষীকুন্ডা ফাঁড়ীর উপ পুলিশ পরিদর্শক তদন্তভার পেয়েছেন।
এসব ত্রাস বাহিনীর কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। দ্রুত এ অবস্থা থেকে পরিত্রান পাওয়া প্রশাসনের কাছে তাদের প্রাণের দাবি।



















