মৌলভীবাজার সদরে জমিসংক্রান্ত বিরোধ! ভাইকে হ/ত্যার অভিযোগে আপন ভাই বোনসহ ৫ জন গ্রেফতার
- আপডেট সময় : ১১:৫৭:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬ ১৩০ বার পড়া হয়েছে

সায়েদা বেগম, স্টাফ রিপোর্টার:
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৪ নং আপার কাগাবলা ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর ও সম্পূর্ণ ‘ক্লুলেস’ আব্দুল মতিন (৫৮) হ/ত্যা মামলার অবিশ্বাস্য জট খুলেছে জেলা পুলিশ। কোনো সূত্র না থাকা এই হ/ত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আপন ভাই-বোনদের নিখুঁত পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রেরই নির্মম বলি হতে হয়েছে তাকে।
এই নৃশংস হ/ত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী আপন ভাই, বোন ও ভাবিসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করে ইতিমধ্যে আদালতে সোপর্দ করেছে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নিহত আব্দুল মতিনের সঙ্গে তার ভাই-বোনদের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মামলা-মোকদ্দমা চলছিল। গত ২৮ জুন আদালতে আব্দুল মতিনের একটি মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার কথা ছিল। এই তথ্যটি আগে থেকেই জানতেন তার মেজো ভাই ও ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী আব্দুল মজিদ।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওইদিন সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টায় আব্দুল মতিন যখন আদালতের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন, তখন মজিদের ভাড়াটে খু’নি ও সহযোগীরা তাকে অনুসরণ করতে থাকে। পথিমধ্যে একটি নির্জন স্থানে সুযোগ বুঝে তাকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। চলন্ত গাড়ির ভেতরেই হাত-পা বেঁধে, শ্বাসরোধ করে ও পিটিয়ে তাকে নির্মমভাবে হ/ত্যা করা হয়। এরপর খু’নি’রা প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে লা/শটি ‘সুন্দর মিয়ার পুকুর’ সংলগ্ন একটি নির্জন রাস্তার ঢালে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
ভিকটিম আব্দুল মতিন সন্ধ্যায়ও বাড়ি না ফেরায় তার স্ত্রী লাকি আক্তার শেফা স্বামীর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, কিন্তু ফোনটি বন্ধ পান। একপর্যায়ে খোঁজাখুঁজির পর তিনি খবর পান যে, বাড়ির অদূরে সুন্দর মিয়ার পুকুর পাড়ের রাস্তার ঢালে একটি লা/শ পড়ে আছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি হাত-পা বাঁধা ও গলায় শার্ট প্যাঁচানো অবস্থায় নিজের স্বামীর র*ক্তাক্ত ম/রদেহ শনাক্ত করেন। ম/র/দেহের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল।
খবর পেয়ে ওই রাতেই মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লা/শ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ম*য়না*তদন্তের জন্য পাঠায়। এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পরপরই মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপারের কড়া নির্দেশনায় একটি বিশেষ টিম তদন্তে মাঠে নামে। কোনো ক্লু না থাকা এই মামলার জট খুলতে পুলিশ আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও নিখুঁত গোয়েন্দা নজরদারি ব্যবহার করে।
অবশেষে ঘটনার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে, গত ৩০ জুন মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চিরুনি অভিযান চালিয়ে হ/ত্যাকাণ্ডের মূল হোতাসহ আপন ভাই, বোন ও ভাবিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন:
১. আব্দুল মজিদ (৫০) — (আপন ভাই ও মূল পরিকল্পনাকারী)
২. আব্দুল আজিদ (৪৩) — (আপন ভাই)
৩. আব্দুল রুফ (৫৬) — (আপন ভাই)
৪. আয়েশা আক্তার রত্না (৩৭) — (আপন বোন)
৫. তুলি বেগম (৪০) — (ভাই আব্দুল মজিদের স্ত্রী)
এই সফল ও ক্লুলেস অপারেশনের নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) নোবেল চাকমা এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়ের। সার্বিক তদন্ত ও অভিযানে ছিলেন সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলামসহ থানার একটি বিশেষ টিম।
মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান: “এ ঘটনায় থানায় একটি নিয়মিত হ/ত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। আমরা ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারিসহ পাঁচজনকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জমিজমা বিরোধের জেরে এই নৃশংস হ/ত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক সত্যতা মিলেছে। মামলার সাথে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”










