ঢাকা, বাংলাদেশ ১০:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
ফুলবাড়ীতে ৬৪ হাজার ৩৫০ টাকার যৌন উত্তেজক সিরাপ জব্দ দিনাজপুরে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তে বিজিবি তারাবো পৌর বিএনপির সভাপতি তাশিক হক ওসমানের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ রাজশাহী বাঘা উপজেলার আরিফপুরে একই বিছানায় স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার দিনাজপুরে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও সদর ট্রাফিক পুলিশের কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত রাজশাহীর বাঘায় ১জন মাদক ব্যবসায়ী ও বলাৎকার মামলার অভিযুক্ত গ্রেপ্তার  বিয়ে ছাড়াই একসঙ্গে বসবাসের পর টাকা নিয়ে উধাও প্রেমিকা, থানায় অভিযোগ দায়ের দিনাজপুরে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি রূপগঞ্জে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে গার্মেন্টস শ্রমিক গ্রেপ্তার রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ২০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

বসন্ত এলে কোকিলের কুহু—প্রকৃতির সুরে নতুন ঋতুর আগমন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ৩০৭ বার পড়া হয়েছে
441

নিত্য সংবাদ প্রতিবেদক:

বাংলাদেশে বসন্তের আগমনের অন্যতম পরিচিত বার্তা বহন করে কোকিলের মধুর ডাক। ফাল্গুন ও চৈত্র মাস এলেই চারদিকে ভেসে আসে “কুহু কুহু” সুর, যা প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের মনে নতুন ঋতুর আমেজ ছড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বসন্তকালে কোকিলের সক্রিয়তা বৃদ্ধি পায় মূলত প্রজনন মৌসুম শুরু হওয়ার কারণে।

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় Asian Koel বা কোকিল পাখি। বসন্তের শুরুতেই এদের ডাক বেশি শোনা যায়। বিশেষ করে শহরের গাছপালায় ভরা এলাকা, গ্রামাঞ্চলের আম-কাঁঠালের বাগান এবং বনভূমির কাছাকাছি এলাকায় কোকিলের উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা যায়। পাখিটির ডাক অনেক দূর পর্যন্ত শোনা যায় এবং এই সুরই বসন্তের আগমনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

পাখিবিদদের মতে, বসন্তকাল কোকিলের প্রজননের সময়। এই সময়ে পুরুষ কোকিল স্ত্রী কোকিলকে আকৃষ্ট করতে বারবার ডাকতে থাকে। কোকিলের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো তারা নিজেরা বাসা তৈরি করে না; বরং অন্য পাখির বাসায় ডিম পাড়ে। বাংলাদেশে সাধারণত House Crow বা কাকের বাসায় কোকিল ডিম পাড়ে বলে জানা যায়। পরে কাক সেই ডিমে তা দেয় এবং বাচ্চা বড় করে।

কোকিল মূলত ফল, পোকামাকড় ও বিভিন্ন ধরনের কীট খেয়ে থাকে। ফলে কৃষি জমির ক্ষতিকর পোকা কমাতেও তারা সহায়ক ভূমিকা রাখে। পরিবেশবিদদের মতে, কোকিলের উপস্থিতি একটি সুস্থ পরিবেশেরও ইঙ্গিত দেয়।

তবে দ্রুত নগরায়ন, গাছপালা কমে যাওয়া এবং শব্দদূষণের কারণে অনেক এলাকায় কোকিলের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, শহর ও গ্রামে গাছ লাগানো এবং সবুজ এলাকা সংরক্ষণ করা গেলে কোকিলসহ নানা পাখির আবাসস্থল রক্ষা করা সম্ভব।

বাংলা সাহিত্য, গান ও কবিতায় কোকিলের বিশেষ স্থান রয়েছে। বসন্তের গান, রবীন্দ্রসংগীত ও লোকগানে কোকিলের ডাক বারবার ফিরে এসেছে প্রকৃতি ও প্রেমের প্রতীক হিসেবে। তাই কোকিল কেবল একটি পাখি নয়—এটি বাঙালির সংস্কৃতি ও ঋতুবৈচিত্র্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বসন্তের কোকিল শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়ায় না, মানুষের মনে জাগায় নতুন আশার সুর। তাই প্রকৃতির এই সুরকে টিকিয়ে রাখতে পরিবেশ সংরক্ষণ ও গাছপালা রক্ষার উদ্যোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বসন্ত এলে কোকিলের কুহু—প্রকৃতির সুরে নতুন ঋতুর আগমন

আপডেট সময় : ০৬:০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
441

নিত্য সংবাদ প্রতিবেদক:

বাংলাদেশে বসন্তের আগমনের অন্যতম পরিচিত বার্তা বহন করে কোকিলের মধুর ডাক। ফাল্গুন ও চৈত্র মাস এলেই চারদিকে ভেসে আসে “কুহু কুহু” সুর, যা প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের মনে নতুন ঋতুর আমেজ ছড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বসন্তকালে কোকিলের সক্রিয়তা বৃদ্ধি পায় মূলত প্রজনন মৌসুম শুরু হওয়ার কারণে।

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় Asian Koel বা কোকিল পাখি। বসন্তের শুরুতেই এদের ডাক বেশি শোনা যায়। বিশেষ করে শহরের গাছপালায় ভরা এলাকা, গ্রামাঞ্চলের আম-কাঁঠালের বাগান এবং বনভূমির কাছাকাছি এলাকায় কোকিলের উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা যায়। পাখিটির ডাক অনেক দূর পর্যন্ত শোনা যায় এবং এই সুরই বসন্তের আগমনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

পাখিবিদদের মতে, বসন্তকাল কোকিলের প্রজননের সময়। এই সময়ে পুরুষ কোকিল স্ত্রী কোকিলকে আকৃষ্ট করতে বারবার ডাকতে থাকে। কোকিলের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো তারা নিজেরা বাসা তৈরি করে না; বরং অন্য পাখির বাসায় ডিম পাড়ে। বাংলাদেশে সাধারণত House Crow বা কাকের বাসায় কোকিল ডিম পাড়ে বলে জানা যায়। পরে কাক সেই ডিমে তা দেয় এবং বাচ্চা বড় করে।

কোকিল মূলত ফল, পোকামাকড় ও বিভিন্ন ধরনের কীট খেয়ে থাকে। ফলে কৃষি জমির ক্ষতিকর পোকা কমাতেও তারা সহায়ক ভূমিকা রাখে। পরিবেশবিদদের মতে, কোকিলের উপস্থিতি একটি সুস্থ পরিবেশেরও ইঙ্গিত দেয়।

তবে দ্রুত নগরায়ন, গাছপালা কমে যাওয়া এবং শব্দদূষণের কারণে অনেক এলাকায় কোকিলের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, শহর ও গ্রামে গাছ লাগানো এবং সবুজ এলাকা সংরক্ষণ করা গেলে কোকিলসহ নানা পাখির আবাসস্থল রক্ষা করা সম্ভব।

বাংলা সাহিত্য, গান ও কবিতায় কোকিলের বিশেষ স্থান রয়েছে। বসন্তের গান, রবীন্দ্রসংগীত ও লোকগানে কোকিলের ডাক বারবার ফিরে এসেছে প্রকৃতি ও প্রেমের প্রতীক হিসেবে। তাই কোকিল কেবল একটি পাখি নয়—এটি বাঙালির সংস্কৃতি ও ঋতুবৈচিত্র্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বসন্তের কোকিল শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়ায় না, মানুষের মনে জাগায় নতুন আশার সুর। তাই প্রকৃতির এই সুরকে টিকিয়ে রাখতে পরিবেশ সংরক্ষণ ও গাছপালা রক্ষার উদ্যোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।