ঢাকা, বাংলাদেশ ০১:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
রূপগঞ্জে ডাকাতের গুলিতে ব্যবসায়ী আহত রাজশাহীর বাঘায় ২ টি বিদেশি পিস্তল, ৩ টি ম্যাগাজিন এবং ৭ রাউন্ড তাজা গুলি সহ এক নারী গ্রেফতার রূপগঞ্জে ১৮৪ বোতল স্কাফসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার রূপগঞ্জে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পিং কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী রূপগঞ্জে ভাতিজাকে অপহরণের পর হত্যার দায়ে চাচার যাবজ্জীবন রূপগঞ্জে বাগানের ৩০ টি আমগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ / ৩ লাখ টাকার ক্ষতি রূপগঞ্জে প্রতিপক্ষের হামলায় দুই শিক্ষার্থীসহ তিন জনকে কুপিয়ে জখম দিনাজপুরে ডিবির অভিযানে ৩৪০ পিস ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ বৃষ্টি হলেই হাঁটুপানি, দুর্ভোগে কাশিমপুরবাসী দ্রুত ড্রেন নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি চৈতী কম্পোজিটকে পরিবেশ দূষণের দায়ে ৭৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ

বসন্ত এলে কোকিলের কুহু—প্রকৃতির সুরে নতুন ঋতুর আগমন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ৩৮৭ বার পড়া হয়েছে
536

নিত্য সংবাদ প্রতিবেদক:

বাংলাদেশে বসন্তের আগমনের অন্যতম পরিচিত বার্তা বহন করে কোকিলের মধুর ডাক। ফাল্গুন ও চৈত্র মাস এলেই চারদিকে ভেসে আসে “কুহু কুহু” সুর, যা প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের মনে নতুন ঋতুর আমেজ ছড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বসন্তকালে কোকিলের সক্রিয়তা বৃদ্ধি পায় মূলত প্রজনন মৌসুম শুরু হওয়ার কারণে।

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় Asian Koel বা কোকিল পাখি। বসন্তের শুরুতেই এদের ডাক বেশি শোনা যায়। বিশেষ করে শহরের গাছপালায় ভরা এলাকা, গ্রামাঞ্চলের আম-কাঁঠালের বাগান এবং বনভূমির কাছাকাছি এলাকায় কোকিলের উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা যায়। পাখিটির ডাক অনেক দূর পর্যন্ত শোনা যায় এবং এই সুরই বসন্তের আগমনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

পাখিবিদদের মতে, বসন্তকাল কোকিলের প্রজননের সময়। এই সময়ে পুরুষ কোকিল স্ত্রী কোকিলকে আকৃষ্ট করতে বারবার ডাকতে থাকে। কোকিলের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো তারা নিজেরা বাসা তৈরি করে না; বরং অন্য পাখির বাসায় ডিম পাড়ে। বাংলাদেশে সাধারণত House Crow বা কাকের বাসায় কোকিল ডিম পাড়ে বলে জানা যায়। পরে কাক সেই ডিমে তা দেয় এবং বাচ্চা বড় করে।

কোকিল মূলত ফল, পোকামাকড় ও বিভিন্ন ধরনের কীট খেয়ে থাকে। ফলে কৃষি জমির ক্ষতিকর পোকা কমাতেও তারা সহায়ক ভূমিকা রাখে। পরিবেশবিদদের মতে, কোকিলের উপস্থিতি একটি সুস্থ পরিবেশেরও ইঙ্গিত দেয়।

তবে দ্রুত নগরায়ন, গাছপালা কমে যাওয়া এবং শব্দদূষণের কারণে অনেক এলাকায় কোকিলের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, শহর ও গ্রামে গাছ লাগানো এবং সবুজ এলাকা সংরক্ষণ করা গেলে কোকিলসহ নানা পাখির আবাসস্থল রক্ষা করা সম্ভব।

বাংলা সাহিত্য, গান ও কবিতায় কোকিলের বিশেষ স্থান রয়েছে। বসন্তের গান, রবীন্দ্রসংগীত ও লোকগানে কোকিলের ডাক বারবার ফিরে এসেছে প্রকৃতি ও প্রেমের প্রতীক হিসেবে। তাই কোকিল কেবল একটি পাখি নয়—এটি বাঙালির সংস্কৃতি ও ঋতুবৈচিত্র্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বসন্তের কোকিল শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়ায় না, মানুষের মনে জাগায় নতুন আশার সুর। তাই প্রকৃতির এই সুরকে টিকিয়ে রাখতে পরিবেশ সংরক্ষণ ও গাছপালা রক্ষার উদ্যোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বসন্ত এলে কোকিলের কুহু—প্রকৃতির সুরে নতুন ঋতুর আগমন

আপডেট সময় : ০৬:০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
536

নিত্য সংবাদ প্রতিবেদক:

বাংলাদেশে বসন্তের আগমনের অন্যতম পরিচিত বার্তা বহন করে কোকিলের মধুর ডাক। ফাল্গুন ও চৈত্র মাস এলেই চারদিকে ভেসে আসে “কুহু কুহু” সুর, যা প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের মনে নতুন ঋতুর আমেজ ছড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বসন্তকালে কোকিলের সক্রিয়তা বৃদ্ধি পায় মূলত প্রজনন মৌসুম শুরু হওয়ার কারণে।

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় Asian Koel বা কোকিল পাখি। বসন্তের শুরুতেই এদের ডাক বেশি শোনা যায়। বিশেষ করে শহরের গাছপালায় ভরা এলাকা, গ্রামাঞ্চলের আম-কাঁঠালের বাগান এবং বনভূমির কাছাকাছি এলাকায় কোকিলের উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা যায়। পাখিটির ডাক অনেক দূর পর্যন্ত শোনা যায় এবং এই সুরই বসন্তের আগমনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

পাখিবিদদের মতে, বসন্তকাল কোকিলের প্রজননের সময়। এই সময়ে পুরুষ কোকিল স্ত্রী কোকিলকে আকৃষ্ট করতে বারবার ডাকতে থাকে। কোকিলের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো তারা নিজেরা বাসা তৈরি করে না; বরং অন্য পাখির বাসায় ডিম পাড়ে। বাংলাদেশে সাধারণত House Crow বা কাকের বাসায় কোকিল ডিম পাড়ে বলে জানা যায়। পরে কাক সেই ডিমে তা দেয় এবং বাচ্চা বড় করে।

কোকিল মূলত ফল, পোকামাকড় ও বিভিন্ন ধরনের কীট খেয়ে থাকে। ফলে কৃষি জমির ক্ষতিকর পোকা কমাতেও তারা সহায়ক ভূমিকা রাখে। পরিবেশবিদদের মতে, কোকিলের উপস্থিতি একটি সুস্থ পরিবেশেরও ইঙ্গিত দেয়।

তবে দ্রুত নগরায়ন, গাছপালা কমে যাওয়া এবং শব্দদূষণের কারণে অনেক এলাকায় কোকিলের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবেশবিদরা বলছেন, শহর ও গ্রামে গাছ লাগানো এবং সবুজ এলাকা সংরক্ষণ করা গেলে কোকিলসহ নানা পাখির আবাসস্থল রক্ষা করা সম্ভব।

বাংলা সাহিত্য, গান ও কবিতায় কোকিলের বিশেষ স্থান রয়েছে। বসন্তের গান, রবীন্দ্রসংগীত ও লোকগানে কোকিলের ডাক বারবার ফিরে এসেছে প্রকৃতি ও প্রেমের প্রতীক হিসেবে। তাই কোকিল কেবল একটি পাখি নয়—এটি বাঙালির সংস্কৃতি ও ঋতুবৈচিত্র্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বসন্তের কোকিল শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়ায় না, মানুষের মনে জাগায় নতুন আশার সুর। তাই প্রকৃতির এই সুরকে টিকিয়ে রাখতে পরিবেশ সংরক্ষণ ও গাছপালা রক্ষার উদ্যোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।