ঢাকা, বাংলাদেশ ১২:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
ফুলবাড়ীতে ৬৪ হাজার ৩৫০ টাকার যৌন উত্তেজক সিরাপ জব্দ দিনাজপুরে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তে বিজিবি তারাবো পৌর বিএনপির সভাপতি তাশিক হক ওসমানের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ রাজশাহী বাঘা উপজেলার আরিফপুরে একই বিছানায় স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার দিনাজপুরে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও সদর ট্রাফিক পুলিশের কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত রাজশাহীর বাঘায় ১জন মাদক ব্যবসায়ী ও বলাৎকার মামলার অভিযুক্ত গ্রেপ্তার  বিয়ে ছাড়াই একসঙ্গে বসবাসের পর টাকা নিয়ে উধাও প্রেমিকা, থানায় অভিযোগ দায়ের দিনাজপুরে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি রূপগঞ্জে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে গার্মেন্টস শ্রমিক গ্রেপ্তার রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ২০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

১০ কেজির বদলে ৮ কেজি: রূপগঞ্জে ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১৩:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ২৮৪ বার পড়া হয়েছে
387

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং (ভিজিএফ) কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ভিজিএফ কার্ডের বিপরীতে ১০ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৮ কেজি থেকে ৯ কেজি চাল। বৃহস্পতিবার তারাব পৌরসভার ৫ টি কেন্দ্রে চাল বিতরণের সময় সরেজমিনে গিয়ে এ অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ তাদের প্রাপ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার ঈদের আগে উপজেলার ৭ টি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভায় ৭ হাজার ৭৭৪ জনকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। তারাব পৌরসভায় ৪ হাজার ৬২৫জনকে ভিজিএফ কার্ডের হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, চাল বিতরণের সময় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১০ কেজি দেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে ওজন করলে দেখা যায় প্রায় ৮ কেজি থেকে শুরু করে ৯ কেজি। চাল ডিজিটাল স্কেলে করে মেপে দেওয়ার কথা থাকলেও চাল আনুমানিকভাবে বালতিতে করে কোন রকম দায়সারাভাবে চাল দেওয়া হচ্ছে কার্ডধারীদের। তবে অনেকেই বিষয়টি জানলেও ভবিষ্যতে তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এসকল বাড়তি চাল খোলা বাজারে বিক্রি করে বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
হাজেরা বেগম নামে কার্ডধারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমাদের বলা হয় ১০ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু মেপে দেখা গেছে দেড় কেজি কম। আমরা গরিব মানুষ, তাই প্রতিবাদ করতে পারি না।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ভিজিএফ কর্মসূচি মূলত অসহায়, দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য চালু করা হয়েছে। সেখানে যদি ওজনে কম দেওয়া হয় বা অনিয়ম ঘটে, তাহলে প্রকৃত উপকারভোগীরা ক্ষতিগ্রস্থ্য হন এবং সরকারের মানবিক উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। তৃণমূল পর্যায়ে চাল বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের অনিয়ম রোধে স্থানীয় প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি, ওজন মেশিনের ব্যবহার এবং উপকারভোগীদের উপস্থিতিতে চাল বিতরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আরিফ মোহাম্মদ বলেন, আমাদের ঠিক মাপমতো চাল দিয়ে দিয়েছি। পরে কেউ যদি চাল কম দেয় আমাদের দেখার বিষয় না।
এ ব্যাপারে তারাব পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম ভুইয়া বলেন, চালের বস্তা আনা নেওয়ার সময় বস্তা থেকে চাল পড়ে যায়। তখন সকলকে দিতে গিয়ে ৫০০ গ্রাম চাল দেওয়া এটা স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু ২ কেজি চাল কম দেওয়ার বিষয়টি অন্যায়। এমন হলে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরবর্তীতে চাল দিলে জিডিটাল স্কেলে মেপে দেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

১০ কেজির বদলে ৮ কেজি: রূপগঞ্জে ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৮:১৩:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
387

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং (ভিজিএফ) কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ভিজিএফ কার্ডের বিপরীতে ১০ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৮ কেজি থেকে ৯ কেজি চাল। বৃহস্পতিবার তারাব পৌরসভার ৫ টি কেন্দ্রে চাল বিতরণের সময় সরেজমিনে গিয়ে এ অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ তাদের প্রাপ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার ঈদের আগে উপজেলার ৭ টি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভায় ৭ হাজার ৭৭৪ জনকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। তারাব পৌরসভায় ৪ হাজার ৬২৫জনকে ভিজিএফ কার্ডের হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, চাল বিতরণের সময় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১০ কেজি দেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে ওজন করলে দেখা যায় প্রায় ৮ কেজি থেকে শুরু করে ৯ কেজি। চাল ডিজিটাল স্কেলে করে মেপে দেওয়ার কথা থাকলেও চাল আনুমানিকভাবে বালতিতে করে কোন রকম দায়সারাভাবে চাল দেওয়া হচ্ছে কার্ডধারীদের। তবে অনেকেই বিষয়টি জানলেও ভবিষ্যতে তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এসকল বাড়তি চাল খোলা বাজারে বিক্রি করে বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
হাজেরা বেগম নামে কার্ডধারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমাদের বলা হয় ১০ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু মেপে দেখা গেছে দেড় কেজি কম। আমরা গরিব মানুষ, তাই প্রতিবাদ করতে পারি না।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ভিজিএফ কর্মসূচি মূলত অসহায়, দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য চালু করা হয়েছে। সেখানে যদি ওজনে কম দেওয়া হয় বা অনিয়ম ঘটে, তাহলে প্রকৃত উপকারভোগীরা ক্ষতিগ্রস্থ্য হন এবং সরকারের মানবিক উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। তৃণমূল পর্যায়ে চাল বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের অনিয়ম রোধে স্থানীয় প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি, ওজন মেশিনের ব্যবহার এবং উপকারভোগীদের উপস্থিতিতে চাল বিতরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আরিফ মোহাম্মদ বলেন, আমাদের ঠিক মাপমতো চাল দিয়ে দিয়েছি। পরে কেউ যদি চাল কম দেয় আমাদের দেখার বিষয় না।
এ ব্যাপারে তারাব পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম ভুইয়া বলেন, চালের বস্তা আনা নেওয়ার সময় বস্তা থেকে চাল পড়ে যায়। তখন সকলকে দিতে গিয়ে ৫০০ গ্রাম চাল দেওয়া এটা স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু ২ কেজি চাল কম দেওয়ার বিষয়টি অন্যায়। এমন হলে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরবর্তীতে চাল দিলে জিডিটাল স্কেলে মেপে দেওয়া হবে।