ঢাকা, বাংলাদেশ ১২:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
রাজশাহী বাঘা চকরাজাপুর পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগ, আইনশৃঙ্খলা জোরদারের আশায় এলাকাবাসী দিনাজপুরে ক্ষতিগ্রস্ত ৬২ পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও গৃহনির্মাণ অনুদানের চেক বিতরণ রূপগঞ্জে ইয়াবা-বিদেশি মদসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেফতার রূপগঞ্জে সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত ফল ব্যবসায়ীর মৃত্যু রূপগঞ্জে সাবেক সেনা ও নৌবাহিনীর ৩৮ কর্মকর্তার ক্রয়কৃত জমি বেদখলের চেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন রূপগঞ্জে গলায় ফাঁস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা আশুলিয়ায় অস্ত্রসহ ডাকাত ও ছিনতাইকারী চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার রাজশাহী বাঘা পদ্মার চরে ২ জন গুলিবিদ্ধ, সন্ধান মিলছে না ১ জনের রূপগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে আহত বাঘায় দেশব্যাপী ভূমিসেবা মেলা ২০২৬-এর শুভ উদ্বোধন

১০ কেজির বদলে ৮ কেজি: রূপগঞ্জে ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১৩:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬ ১৯১ বার পড়া হয়েছে
282

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং (ভিজিএফ) কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ভিজিএফ কার্ডের বিপরীতে ১০ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৮ কেজি থেকে ৯ কেজি চাল। বৃহস্পতিবার তারাব পৌরসভার ৫ টি কেন্দ্রে চাল বিতরণের সময় সরেজমিনে গিয়ে এ অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ তাদের প্রাপ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার ঈদের আগে উপজেলার ৭ টি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভায় ৭ হাজার ৭৭৪ জনকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। তারাব পৌরসভায় ৪ হাজার ৬২৫জনকে ভিজিএফ কার্ডের হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, চাল বিতরণের সময় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১০ কেজি দেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে ওজন করলে দেখা যায় প্রায় ৮ কেজি থেকে শুরু করে ৯ কেজি। চাল ডিজিটাল স্কেলে করে মেপে দেওয়ার কথা থাকলেও চাল আনুমানিকভাবে বালতিতে করে কোন রকম দায়সারাভাবে চাল দেওয়া হচ্ছে কার্ডধারীদের। তবে অনেকেই বিষয়টি জানলেও ভবিষ্যতে তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এসকল বাড়তি চাল খোলা বাজারে বিক্রি করে বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
হাজেরা বেগম নামে কার্ডধারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমাদের বলা হয় ১০ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু মেপে দেখা গেছে দেড় কেজি কম। আমরা গরিব মানুষ, তাই প্রতিবাদ করতে পারি না।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ভিজিএফ কর্মসূচি মূলত অসহায়, দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য চালু করা হয়েছে। সেখানে যদি ওজনে কম দেওয়া হয় বা অনিয়ম ঘটে, তাহলে প্রকৃত উপকারভোগীরা ক্ষতিগ্রস্থ্য হন এবং সরকারের মানবিক উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। তৃণমূল পর্যায়ে চাল বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের অনিয়ম রোধে স্থানীয় প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি, ওজন মেশিনের ব্যবহার এবং উপকারভোগীদের উপস্থিতিতে চাল বিতরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আরিফ মোহাম্মদ বলেন, আমাদের ঠিক মাপমতো চাল দিয়ে দিয়েছি। পরে কেউ যদি চাল কম দেয় আমাদের দেখার বিষয় না।
এ ব্যাপারে তারাব পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম ভুইয়া বলেন, চালের বস্তা আনা নেওয়ার সময় বস্তা থেকে চাল পড়ে যায়। তখন সকলকে দিতে গিয়ে ৫০০ গ্রাম চাল দেওয়া এটা স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু ২ কেজি চাল কম দেওয়ার বিষয়টি অন্যায়। এমন হলে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরবর্তীতে চাল দিলে জিডিটাল স্কেলে মেপে দেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

১০ কেজির বদলে ৮ কেজি: রূপগঞ্জে ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৮:১৩:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
282

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং (ভিজিএফ) কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ভিজিএফ কার্ডের বিপরীতে ১০ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৮ কেজি থেকে ৯ কেজি চাল। বৃহস্পতিবার তারাব পৌরসভার ৫ টি কেন্দ্রে চাল বিতরণের সময় সরেজমিনে গিয়ে এ অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ তাদের প্রাপ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার ঈদের আগে উপজেলার ৭ টি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভায় ৭ হাজার ৭৭৪ জনকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। তারাব পৌরসভায় ৪ হাজার ৬২৫জনকে ভিজিএফ কার্ডের হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, চাল বিতরণের সময় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১০ কেজি দেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে ওজন করলে দেখা যায় প্রায় ৮ কেজি থেকে শুরু করে ৯ কেজি। চাল ডিজিটাল স্কেলে করে মেপে দেওয়ার কথা থাকলেও চাল আনুমানিকভাবে বালতিতে করে কোন রকম দায়সারাভাবে চাল দেওয়া হচ্ছে কার্ডধারীদের। তবে অনেকেই বিষয়টি জানলেও ভবিষ্যতে তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এসকল বাড়তি চাল খোলা বাজারে বিক্রি করে বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
হাজেরা বেগম নামে কার্ডধারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমাদের বলা হয় ১০ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু মেপে দেখা গেছে দেড় কেজি কম। আমরা গরিব মানুষ, তাই প্রতিবাদ করতে পারি না।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ভিজিএফ কর্মসূচি মূলত অসহায়, দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য চালু করা হয়েছে। সেখানে যদি ওজনে কম দেওয়া হয় বা অনিয়ম ঘটে, তাহলে প্রকৃত উপকারভোগীরা ক্ষতিগ্রস্থ্য হন এবং সরকারের মানবিক উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। তৃণমূল পর্যায়ে চাল বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের অনিয়ম রোধে স্থানীয় প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি, ওজন মেশিনের ব্যবহার এবং উপকারভোগীদের উপস্থিতিতে চাল বিতরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আরিফ মোহাম্মদ বলেন, আমাদের ঠিক মাপমতো চাল দিয়ে দিয়েছি। পরে কেউ যদি চাল কম দেয় আমাদের দেখার বিষয় না।
এ ব্যাপারে তারাব পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম ভুইয়া বলেন, চালের বস্তা আনা নেওয়ার সময় বস্তা থেকে চাল পড়ে যায়। তখন সকলকে দিতে গিয়ে ৫০০ গ্রাম চাল দেওয়া এটা স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু ২ কেজি চাল কম দেওয়ার বিষয়টি অন্যায়। এমন হলে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরবর্তীতে চাল দিলে জিডিটাল স্কেলে মেপে দেওয়া হবে।