রূপগঞ্জে ৩শ’ মাদকের স্পট সক্রিয় ॥ ঈদকে ঘিরে বিপুল মাদকদ্রব্য মজুদ
- আপডেট সময় : ০৭:২৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬ ১২৭ বার পড়া হয়েছে

নিত্য সংবাদ প্রতিবেদক:
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো, পূর্বাচল উপশহর, চনপাড়া, গোলাকান্দাইল, মুড়াপাড়া, কাঞ্চন, ইছাপুরা, গোয়ালপাড়া, লাভরাপাড়া, ঠাকুরবাড়িরটেক, গোলাকান্দাইল ৫নম্বর ক্যানেল, নোয়াপাড়া, হাটিপাড়াসহ আশাপাশের এলাকার তিন শতাধিক মাদকের স্পট সক্রিয় রয়েছে। আসন্ন ঈদকে ঘিরে এখানে মজুদ করা হচ্ছে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য। সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপুর নির্দেশে ও স্থানীয় বিএনপির সহায়তায় বিগত ১ মাসে বিপুল পরিমাণ ফেন্সিডিল, গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ১৫মার্চ রবিবার রূপগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক হুমায়ূন আহমেদ, সহকারী উপ-পরিদর্শক আহসানউল্লাহ ও নাদিরুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এসপি, ওসি ও সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু প্রশংসিত হয়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে মাদকের স্পট রয়েছে একশ’র অধিক। এসব মাদকের স্পট নিয়ন্ত্রণে ৩০/৩২টি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। খুচরা ব্যবসায়ীর সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বেশি। মাদকসেবীর সংখ্যা ২৫/৩০হাজার মানুষ। এদের তালিকায় শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে ধর্ণাঢ্য ব্যক্তিরা রয়েছে। ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিদের কারো কারো এ তালিকায় নাম আছে। বছরে এসব মাদকসেবীর অপচয় হয় বিপুল পরিমাণ টাকা। সন্ধ্যার পরপরই মাদক ব্যবসায়ীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থী ও তরুণরাও মাদক সেবনে ঝুঁকছে। বর্তমানে নানা প্রতিকূলতায় মাদকবিরোধী অভিযান মুখ থুবড়ে পড়ছে। ইয়াবা আসক্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বহনে সহজলভ্য হওয়ায় মাদক ব্যবসায়ীরাও ইয়াবা ব্যবসায় ঝুঁকে পড়ছে।
শুধু চনপাড়া নয়, রূপগঞ্জের সর্বত্রই যেন চলছে মাদকের রমরমা বাণিজ্য।গোলাকান্দাইল ৫নং ক্যানেল এলাকা, গোলাকান্দাইল উত্তরপাড়া বালুরমাঠ, কালী মজলিসের বাগ, মুসলিমপাড়া কাঁঠালবাগান, তারাবো পৌরসভার হাটিপাড়া, নোয়াপাড়া, বরাবো, কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নগরপাড়া, বাগবাড়ী, দেলপাড়া, নয়ামাটি, কামশাইর, বরুণা, মুড়াপাড়া ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাও, নগর, পাবই, বানিয়াদি, গংগানগর, দড়িকান্দি, মাছিমপুর, মাহমুদাবাদ, হাওলীপাড়া এলাকা রীতিমতো মাদকের ডিপো করা হয়েছে। রূপগঞ্জ ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া ও পূর্বাচল উপশহরে মাদকের সয়লাব। রাতালদিয়া, সাওঘাট, পূর্ব দরিকান্দি, রূপসী স্লুইসগেট, কালাদি, আতলাশপুর, হাটাবো টেকপাড়া, গন্ধর্বপুর, দক্ষিণ মাসাবোসহ আরও অনেক এলাকায় মাদকের ব্যবসা এখন জমজমাট। এদের মধ্যে কেউ ইয়াবা, কেউ ফেন্সিডিল, কেউ হেরোইন আবার কেউবা গাঁজার ব্যবসায়ী।
পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও করছে মাদক ব্যবসা। কখনও মাদক ব্যবসায় ব্যবহার করা হচ্ছে বেদে বহর, কখনও লবণবাহী সাম্পান আবার সিমেন্টের ক্লিংকারবাহী কার্গো জাহাজ।
মাদকের কালো ছায়ায় অন্ধকার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ। অল্প সময়ে ধনী হওয়ার আশায় অনেক তরুণ ও নারীও এ পেশায় ঝুঁকছেন। মাদক বহনে টোকাই ও শিশু-কিশোরদেরও ব্যবহার করা হচ্ছে।
মরণ নেশা গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবা, ফেন্সিডিল, ফেন্সিডিলের বিকল্প হিসেবে স্কাফ, আইসপিল, টিডিজেসিক ও লুপিজেসিক ইঞ্জেকশনসহ নানা ধরণের মাদকদ্রব্যে এখন হাতের নাগালেই।
এছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাঁচপুর থেকে আধুরিয়া পর্যন্ত ছোট-বড় প্রায় ৫ শতাধিক শিল্পকারখানা রয়েছে। এসব শিল্পকারখানায় রয়েছে কয়েক লাখ শ্রমিক। এদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক নেশায় জড়িয়ে পড়ছে।
সড়ক ও নৌপথে এলাকায় অবাধে মাদকদ্রব্য আসে। এছাড়া শীতলক্ষ্যা নদী পথে পণ্যবাহী জাহাজে করে মাদক আসে রূপগঞ্জে। সেইসঙ্গে এশিয়ান হাইওয়ে দিয়ে বিভিন্ন যানবাহনে কুমিল্লা ও ব্রাক্ষণবাড়িয়া থেকে মাদক আসে রূপগঞ্জে। আশুগঞ্জ-ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকেও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক হয়ে মাদক আসে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা হচ্ছে মাদকের ট্রানজিট পয়েন্ট।
এখানে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটেছে হত্যাকান্ডের ঘটনাও। স্থানীয় প্রশাসন এখানকার মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নিতে বরাবরই ব্যর্থ হচ্ছে। মাদকের হাটখ্যাত চনপাড়া বস্তি থেকে থানা পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক ও প্রভাবশালীরা নিয়মিত বখরা পায় বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে অভিযানে উদ্ধারও হচ্ছে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য। গ্রেফতার করা হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীদের। আইনের ফাঁকফোকরে জামিনে এসেই আবারো মেতে উঠে এ ব্যবসায়।




















